গোয়াইনঘাট (সিলেট): সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় পরিবেশ সংকটাপন্ন অঞ্চল ঘোষিত নদী এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালুবাহী ট্রাক–ট্রাক্টর থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী ও শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম।
জাফলং বাজারের জমিদার মসজিদ এলাকার নিচের সড়ক ও জাফলং চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন শত শত ট্রাক, ট্রাক্টর ও বারকি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
ট্রাকপ্রতি নির্ধারিত হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে-১০ চাকার ট্রাক থেকে ১,০০০ টাকা,৬ চাকার ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা,ট্রাক্টর (মাহিন্দ্রা) থেকে ২০০ টাকা,বারকি নৌকা প্রতি ১০০ টাকা ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চাঁদা আদায় কাজটি করছে কয়েকটি দলীয় পরিচয় ব্যবহারকারী গোষ্ঠী। চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন এএসআই রেজওয়ান । পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পরিচিত যুবদল নেতা মহমুদ, যুবদল নেতা ইউসুফ ও হেলোয়ারের অনুসারী কয়েকটি গ্রুপ প্রকাশ্যে চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে এসব চক্র। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের লাঞ্ছিত করা ও গাড়ি থামিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর গত আগস্টে ক্ষমতার পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কিছু প্রভাবশালী প্রথমে পাথর লুটে যুক্ত হয় এবং পরে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে বালু উত্তোলন শুরু করে। নদী থেকে বালু তুলে জমিদার মসজিদের পাশের সড়কে মজুদ করে সে বালু প্রতিদিন শত শত গাড়িতে পরিবহন করা হচ্ছে।
জাফলং চা বাগান এলাকার লোকজন জানান, রাতের অন্ধকারে এবং ভোরের দিকে একটি দল অবৈধ বালু উত্তোলন করে। পুলিশি অভিযান শুরু হওয়ার আগেই অভিযানের খবর পাচ্ছে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ফলে তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, জাফলং এর পরিবেশ সংকটাপন্ন অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদী অববাহিকা, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ সম্পূর্ণ হুমকির মুখে পড়বে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় শ্রমিক ও সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন, “বালু লুট ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হবে, পাশাপাশি গরিব শ্রমিকদের জীবিকা বিপন্ন হবে। তারা দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা, বালু মজুদ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন কার্যক্রমে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
প্রকাশক: মিসেস মোর্শেদা হাসান, সম্পাদক : কল্লোল পাল সর্দার, প্রধান সম্পাদক : ইমরান হাসনাত জুম্মান(ইউকে প্রবাসী) ,
সহ-সম্পাদক: মো: আল-আমীন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রাজা ম্যানশন, জিন্দাবাজার, সিলেট।, মোবাইল: ০১৬০৭৮৯৭৭৯৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত