
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোঃ লোকমান আহমদ (১৮) গত ১৬ নভেম্বর, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। নিখোঁজ লোকমান সিলেট সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
ছেলের সন্ধান না পেয়ে পরিবার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও এখনো তার হদিস মেলেনি। পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জৈন্তাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন জাহাঙ্গীর আলম। জিডি নম্বর-১০৮০।
এদিকে নিখোঁজের পরদিনগুলোতে জাহাঙ্গীর আলমের বড় ভাই মাওলানা বদরুল আলম আলমগীর (৫০) হঠাৎ করেই ভাইয়ের বাড়ি ২২ লক্ষ টাকায় কিনে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়— ছেলেকে খুঁজে না পাওয়ার উদ্বেগের কথা জানালেও বদরুল আলম রহস্যজনক হাসি দিয়ে বলেন “এমনিতেই ফিরে আসবে”, যা পরিবারের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই বড় ভাই তাকে বাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চাঁপে ফেলে পৈতৃক বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে লোকমানকে কোথাও আটকিয়ে রাখা হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়—বদরুল আলমের মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী, তিনি ভারতীয় চোরাচালান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং বিপুল অর্থের মালিক, পরিবারে থাকা পৈতৃক সম্পত্তির সকল কাগজপত্র তার জিম্মায়, যা তিনি হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান।
তার অবৈধ বাণিজ্য থেকে সরে আসার জন্য লোকমানের পুলিশে কর্মরত ভাই মোঃ ইয়াহিয়া (বাংলাদেশ পুলিশ-কর্মরত) তাকে অনুরোধ করায় তিনি পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত আচরণ করছেন, এবং ইতিপূর্বে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ইং তারিখে জাহাঙ্গীর আলম ও তার তিন ছেলেকে আসামি করে একটি মিথ্যা (মামলা নং-১১) দায়ের করা হয়, যা ২৮ অক্টোবর ২০২৫ সালে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিলেট।
তবে মামলা খারিজের পরও পরিবারকে নিয়মিত মিথ্যা মামলা, ছেলেকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি ও থানা পুলিশের মাধ্যমে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা ও আমার পুলিশে কর্মরত ছেলে নিয়মিত হুমকির মুখে আছি। আমার নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধারে পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি আরো বলেন বিষয়টি সংবেদনশীল ও সম্ভাব্য অপরাধ সংশ্লিষ্ট, তাই পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত, মোবাইল ট্র্যাকিং, সম্ভাব্য আস্তানা ও যোগাযোগ বিশ্লেষণ,
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ লোকমান আহমদের অবস্থান অজানা। পরিবার দ্রুত তার সন্ধান এবং নিরাপদ উদ্ধারের প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছে।