ইমাম হোসেন, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ২নং সেলবরষ ইউনিয়নের শরিশ্যাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চৌধুরী তোহিদুন নবীর বিরুদ্ধে সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া, আর্থিক হিসাব গোপন, আসবাবপত্র সংকট সৃষ্টি, ওয়াইফাই একক ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত হয় না বলে দাবি সহকারী শিক্ষকদের। বিদ্যালয়ের নির্ধারিত শুরুর সময় সকাল ৯টা হলেও তিনি প্রায়ই ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আসেন। উপস্থিতি বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চার্জার আনতে দেরি হয়ে গেছে।”
সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক একই কক্ষে একসঙ্গে দুই শ্রেণির ক্লাস পরিচালনার মতো অস্বাভাবিক পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়েছেন, একটি কক্ষ তালাবদ্ধ করে টেবিল–চেয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র নিজের ইচ্ছায় মজুত রেখেছেন; ফলে শিক্ষার্থীরা বসার পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছে না। শিক্ষকদের অফিসে বসার জন্য চেয়ার সরবরাহের অনুরোধও তিনি উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের আয়–ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রধান শিক্ষক উপস্থাপন করেন না। বিদ্যালয়ের ওয়াইফাই সংযোগটি তিনি নিজের ব্যক্তিগত কাজে এককভাবে ব্যবহার করেন, অন্য শিক্ষকরা তা থেকে বঞ্চিত। তিনি প্রায়ই দুপুর ২–৩টার মধ্যেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, একই রুমে দুইটি ক্লাস নেওয়ার কারণে চেঁচামেচি, কোলাহল ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ালেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। “শব্দের জন্য কিছুই বুঝতে পারি না,”—কথাগুলো জানায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের বাজেট নিয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, “মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭০ হাজার টাকা, ভ্যাট–ট্যাক্স কেটে ৪৩ হাজার ২০০ টাকা পেয়েছি।” তবে বরাদ্দ ও ব্যয়ের কোনো স্লিপ বা কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। কখনো চাবি, কখনো আলমারি খুঁজে তালবাহানা করলেও শেষ পর্যন্ত হিসাব দেখাতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “সাংবাদিক সাহেব, আপনাদের সঙ্গে কিছু গোপন কথা আছে,”—যা নিয়ে আরও সন্দেহ তৈরি হয়।
এলাকাবাসী মন্তব্য করে বলেন, “বিদ্যালয়ে যে অনিয়ম চলছে, তার জন্য প্রধান শিক্ষকই দায়ী। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জরুরি।” তারা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনসাধারণ।
প্রকাশক: মিসেস মোর্শেদা হাসান, সম্পাদক : কল্লোল পাল সর্দার, প্রধান সম্পাদক : ইমরান হাসনাত জুম্মান(ইউকে প্রবাসী) ,
সহ-সম্পাদক: মো: আল-আমীন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রাজা ম্যানশন, জিন্দাবাজার, সিলেট।, মোবাইল: ০১৬০৭৮৯৭৭৯৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত