
পারভেজ হাসান, হবিগঞ্জ লাখাই প্রতিনিধি:: নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিত এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করার কারণে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসার গোলাম রব্বানী-এর বিরুদ্ধে চরম দায়িত্বহীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি টানা অনুপস্থিত থাকায় ২০ থেকে ২৫ জন আবেদনকারী ভাতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার গোলাম রব্বানী গত ২৬ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অথচ ৩০ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনের শেষ সময়। শেষ দিনেও গোলাম রব্বানী অফিসে না আসায় ২০-২৫ জন প্রতিবন্ধী তাদের আবেদনের সকল ডকুমেন্ট নিয়ে উপস্থিত থাকলেও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি।
উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, তারা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আবেদন করার জন্য সমাজসেবা অফিসে আসছেন। কিন্তু অফিসারকে হয় পাওয়া যায় না, না হয় পেলেও তিনি নানা অজুহাতে কাজ করে দেন না এবং তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।
সমাজকর্মী শাহীন মিয়া জানান, উপস্থিত সবারই প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট রয়েছে এবং তারা অফিসের সকল কাজ গুছিয়ে রেখেছেন। শুধুমাত্র সমাজসেবা অফিসার তার পিন পাসওয়ার্ড দিলেই আবেদন করা সম্ভব।
শাহীন মিয়া আরও জানান, গোলাম রব্বানী তাকে ফোন করে নাকি অফিসের সামনে লিখে দিতে বলেছেন যে ‘আজ থেকে আর প্রতিবন্ধী আবেদন করা হবে না’। যেখানে আবেদনের সময়সীমা আজ রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে, সেখানে এই ধরনের নির্দেশনার পেছনে রহস্য দেখছেন অনেকে।
এ বিষয়ে গোলাম রব্বানীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
দায়িত্বহীনতার বিষয়টি লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাস অনুপ-কে গত সপ্তাহে জানানোর পরও পরিস্থিতি বদলায়নি। ইউএনও বলেন, তিনি বিষয়টি দেখছেন এবং সমাজসেবা অফিসারকে বলে দিয়েছেন।
কাজ না হওয়ায় পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) রাশেদুজ্জামান চৌধুরী-এর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, গোলাম রব্বানীর ছুটি ছিল শুধুমাত্র ২৭ নভেম্বরের জন্য। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তার অনুপস্থিতি কেন, সে বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
ডিডি রাশেদুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, তিনি গোলাম রব্বানীকে পিন পাসওয়ার্ড অফিসে কাউকে দিয়ে দিতে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে উপস্থিত প্রতিবন্ধীরা আবেদন করতে পারে, কিন্তু তিনি তা করেননি এবং তার কথা রাখেননি।
“আজকে যারা আবেদন না করতে পারবে, এর দায়ভার গোলাম রব্বানীকে নিতে হবে। আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং লাখাই থেকে বদলির জন্য ব্যবস্থা করব।”
সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী ও সমাজকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, একজনের চরম ভুলের কারণে এতগুলো প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন, এর দায়ভার কি শুধু বদলির মাধ্যমে শেষ হবে? তারা মনে করেন, গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে তিনি অন্যত্র গিয়েও একই ধরনের দায়িত্বহীনতা দেখাবেন।
উপস্থিত জনগণের ধারণা, গোলাম রব্বানী যেহেতু তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা শোনেন না, তার এই ধরনের কুঠির জোর কোথায়, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সময়মতো পিন পাসওয়ার্ড অফিসে কাউকে বুঝিয়ে দিলে এই ২০-২৫ জন প্রতিবন্ধী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন না। জনগণের প্রত্যাশা, সমাজসেবা নামের এই অফিস যেন সেবার নামে হয়রানির কেন্দ্রে পরিণত না হয়।