নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আদালতে পশু নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ মামলার বিবাদীর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫/৬/২৫ ইং তারিখে গোয়াইনঘাট উপজেলার লাউবিল (জুলাই) গ্রামের মৃত কনাই মিয়ার মেয়ে মোছা: নাছিমা বেগম( ৪৫)এর একটি নতুন গর্ভবতী হলুদ বর্নের গাভী বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩ ঘটিকার সময় দিঘরা থেকে ছুটে গিয়ে একই গ্রামের মৃত ছৈলমিয়ার ছেলে রাহিম আহমেদ(২৮) এর রান্না ঘরে অজান্তে প্রবেশ করে খাদ্য খেতে থাকে বিষয়টি দেখতে পেয়ে রাহিম আহমেদ এর বৃদ্ধ মাতা লয়লু বেগম (৭০)বাশের ছোট কঞ্চা হাতে নিয়ে বের করে দিতে চাইলে গাভীটি দৌড় দিয়ে ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়। বের হওয়ার সময় ঘরের ভাঙ্গা স্টিলের দরজায় লেগে গাভীর একটি পা কেটে যায়। ঘটনার সময় রাহিম আহমেদ বাড়ীতে ছিলেন না, এমন কি বাদী নাছিমা বেগমও বাড়ীতে ছিলেননা। তিনি তাহার এক আত্নীয়র বাড়ীতে ছিলেন, মোবাইল ফোনে গাভীর পা কেটে যাওয়ার খবর পেয়ে বাড়ীতে আসেন। এর পর তিনি একই গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর ছেলে ফরিদুর রহমান, মৃত কানাই মিয়ার ছেলে বাদী নাছিমা বেগম এর ভাই আবুল কাসিম, মৃত আব্দুল জলিল এর ছেলে আব্দুল খালিক এবং মৃত খলিলুর রহমান এর ছেলে রুবেল আহমদকে নিয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করতে যান। বিষয়টি শুনতে পেয়ে রাহিম আহমদ থানায় ছুটেযান গিয়ে তিনি আপুষে মিমাংসার চেষ্টা করেন। তিনবার গোয়াইনঘাট থানায় বিচার সালিশ হলেও মিমাংসা করতে ক্ষতি পুরণ বাবদ নাছিমার পক্ষের লোক ফরিদুর রহমান, আব্দুল খালিক ও রুবেল ১ লক্ষ টাকা দাবী করেন। পক্ষান্তরে বিবাদী রাহিম আহমেদ এর পক্ষের লোকেরা গাভীর পায়ের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে রাজী হয়, কিন্তু নাছিমার পক্ষের লোকেরা ১ লক্ষ টাকায় অনড় থাকলে বিচার সালিশ ভেঙে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনার দীর্ঘ ২ মাস ১৩ দিন পর নাছিমা বেগম বাদী হয়ে রাহিম আহমেদকে বিবাদী করে গত ১৮/০৮/২০২৫ ইং তারিখে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্টেট আদালত গোয়াইনঘাটে একটি দরখাস্ত মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩২৯/২০২৫ইং।
মামলা সম্পর্কে জানতে বিবাদীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, একটি টুনকু ঘটনাকে পুঁজি করে গ্রামের অসাধু ব্যক্তিরা মিমাংসা করার জন্য থানায় বসে ১ লক্ষ টাকা দাবী করেন। তাদের দাবী পুরণ না হওয়ায় নাছিমা বেগমকে দিয়ে আদালতে মামলা করিয়ে আমাকে হয়রানি করতে চান।