
জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:: বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-৭৭) নির্বাচন অনুষ্ঠিতে প্রায় ৮০( আশি) লক্ষ টাকা প্রয়োজন। চা শ্রমিক ইউনিয়ন বর্তমান কমিটি দুই কিস্তিতে ২৫( পঁচিশ) লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর গঠণতন্ত্র সংশোধনী ও সংস্কার করে চাশ্রমিক বান্ধব নির্বাচন দেওয়ার দ্রুত আহ্বান জানান।
চা শ্রমিক এক হও!! চা- শ্রমিকের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করো!!
চা বাগান সমূহের চলমান সমস্যা সমাধান কল্পে করণীয় ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন বি-৭৭ এর নির্বাচন বিষয়ক শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের বিডিআরআই অফিস হলরুমে দুপুর ১২’ঘটিকা হতে বিকাল ৩’ঘটিকা পর্যন্ত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটি উদ্দ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
আয়োজকরা দল মত নির্বিশেষে চা বাগানের সকল নেতৃবৃন্দদের উন্মুক্ত আলোচনা, মতামত ও দিকনির্দেশনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ( বি-৭৭) লেবার হাউজ দ্রুত নির্বাচনের দাবীতে চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিক, দল ও মতবিরোধ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ছাত্রযুবরা উদ্ধেগজনক ক্ষোভ প্রকাশে বিভিন্ন গ্রুফিং গঠণ করতেছে। যাহা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, দল ও মত বিরোধে স্থানীয় চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ছাত্রযুবদের মাঝে ভয়াবহ সাংঘর্ষিক ঘটনার আশঙ্কা করা যাইতেছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-৭৭) বিগত প্রায় ৭( সাত) বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নাই। চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন গত ২০১৮ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল অথচ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ( লেবার হাউজ) গঠণতন্ত্র ধারা মতে তিন(৩) বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন হওয়ার বিধি-বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশব্যাপী ৭টি ভ্যালীতে ১৬৯( একশত উনসত্তর) টি চা বাগানে কর্মরত স্থায়ী লক্ষাধিক চা শ্রমিক এর ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৬৯( একশত উনসত্তর) টি চা বাগানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য জেলাভিত্তিক নির্বাচন কমিশন গঠণ, রিটার্নিং অফিসার,সহকারি রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার,পোলিং অফিসার, কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, ভোটের সিল স্ট্যাম্প, পরিবহনবাবদ, দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সম্মানি ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ৮০( আশি) লক্ষ টাকা প্রয়োজনের কথা বলেছেন নির্বাচন অনুষ্ঠিতে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট অফিস। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন পক্ষ হইতে ১ম’বার ২০(বিশ) লক্ষ টাকা ও ২য়’বার ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা মোট ২৫(পঁচিশ) লক্ষ টাকা নির্বাচন দাবীতে চেকের মাধ্যমে প্রদান করেছেন বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল উপ-পরিচালক কার্যালয়ে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য আর ৫৫(পঞ্চান্ন) লক্ষ টাকা প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন চা শ্রমিকের গণতান্ত্রিক অধিকারকে গলাটিপে হত্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন ধারাবাহিকতা না থাকায় চা শ্রমিক দ্বি-বার্ষিক মজুরী চুক্তি, বকেয়া টাকা,বোনাস টাকা, বার্ষিক মজুরী বৃদ্ধি, চা বাগানে কর্মরত স্থায়ী ও অস্থায়ী চা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরী বৈষম্য ও মৌলিক অধিকার সমূহ বঞ্চিত ও ক্ষুন্ন করা হচ্ছে, দল মত নির্বিশেষে সবাই হাতে হাত মিলিয়ে শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলে বাগানে বাগানে শিক্ষিত ছাত্রযুবদের নিয়ে কমিটি গঠণ করে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন দাবীতে জোর দাবী জানিয়েছেন আগত অতিথিবৃন্দ ও চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন ছাত্রযুবরা চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন না হওয়ার জন্য উদ্ধেগ প্রকাশ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা সভার আসন অলংকৃত করেন প্রধান অতিথি প্রফেসর চিত্তরঞ্জন রাজবংশী, বিশেষ অতিথি অজিত রায় বাড়াইক, গীতা রাণী কানু, কেয়া চৌধুরী জুঁই , শ্রীরাম সবর, দীপ্ত কর্মকার, রামদয়াল গোয়ালা সহ বিভিন্ন চা বাগান হতে আগত চা শ্রমিক প্রতিনিধি , শিক্ষিত সচেতন ছাত্রযুব নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব জনকলাল দেশোয়ারা জনির সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন রামদয়াল গোয়ালা।